লেবু পানি কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়


লেবু পানি কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এই পোস্টে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা, খালি পেটে লেবু পানি খাবার নিয়ম, লেবু পানির উপাদান ও পুষ্টিগুণ, গর্ভাবস্থায় লেবুর পানি খাওয়া যাবে কি? লেবু পানি নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস, লেবু পানির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, ওজন কমাতে লেবু পানির ব্যবহার, ত্বক  ও চুলের যত্নে লেবু পানির ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এই গাইডে।

এই আর্টিকেলে লেবু পানি কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি সহজ ও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেন আপনারা এর সঠিক ব্যবহার বুঝতে পারেন। তাই বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পেজ সূচিপত্রঃ লেবু পানি কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়

লেবু পানি কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়

আজকে আমরা খুবই পরিচিত এবং স্বাস্থ্যকর একটি পানীয় নিয়ে আলোচনা করব। সেটি হচ্ছে লেবু পানি। আমাদের দৈনিক দিন জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি ফল এবং বহু প্রাচীনকাল থেকে এটি বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে লেবু পানি খাওয়ার অভ্যাস অনেক মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। আপনারা অনেকেই প্রশ্ন করেন যে, লেবু পানি কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। লেবুতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই জানতে চান খালি পেটে লেবু খেলে আসলে কি কি উপকার পাওয়া যায়? এবং এটি শরীরে জন্য কতটা কার্যকর। লেবুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।


খালি পেটে লেবু পানি খাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকার হলো এটি শরীরকে সতেজ রাখে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। লেবুর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান পাকস্থলীর হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এবং গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও লেবুতে রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অনেক মানুষ ওজন কমানোর জন্য ও সকালে লেবু পানি পান করেন। কারণ এটি শরীরের মেটাবলিজম বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যায়াম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের সাথে যদি প্রতিদিন সকালে লেবু পানি পান করা হয়, তাহলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি ধীরে ধীরে কমতে পারে।

লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা

লেবু যা সাধারণত একটি টক ফল। কিন্তু আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই জানে না যে, লেবু আমাদের শরীরের ভেতরে গিয়ে করে কি? আর এর সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়ার জন্য একে কখন? কিভাবে? ব্যবহার করতে হয়। যদি আপনি লেবুর ব্যবহার সঠিকভাবে শিখে যান, তাহলে আপনি বুঝে যাবেন। এটি ওষুধের থেকে কিছু কম না। এটি আপনার শরীরের বিভিন্ন অসুখকে নিমিষে শেষ করে দেয়। তাহলে জেনে নিন লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা কি কি? লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সাইটিক অ্যাসিড । যা পাকস্থলীতে হজমের সাহায্য করে।

ভারী খাবার খাওয়ার পর লেবু পানি খেলে হজমের কাজটা সহজ হয়। ভারী খাবার খাওয়ার পর যে অস্বস্তি তৈরি হয়। তা অধিকাংশ কাটিয়ে তুলতে সহায়তা করে। বদহজম বা অম্বলের সমস্যা উপকারী হতে পারে লেবু পানি। রাতে ঘুমোনোর আগে এক গ্লাস গরম লেবু পানি পান করা সুস্থ থাকার একটি ভালো উপায়। ভিটামিন সি এর একটি ভালো উৎস যা লেবু পানিতে স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। যেমন ভিটামিন সি কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এটি কোলাজেল উৎপাদনে সহায়তা করে। লেবুর সাথে পানির মতো বেশী তরল পান করলে, আপনার মূত্রনালীর ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে যায় এবং আপনাকে মূত্রনালিশ সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

খালি পেটে লেবু পানি খাবার নিয়ম

লেবু আমাদের সবার কাছে পরিচিত। আমরা সবাই কমবেশি লেবু খায়। সাধারণত খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য আমরা লেবু খেয়ে থাকি। চলুন জেনে নিই খালি পেটে লেবু পানি পান করলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যায়? রক্তচাপ কমায়, মেটাবলিজম বাড়ায়, শরীরকে রিহাইডেট করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, দ্রুত ওজন হ্রাস  করে। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, কাশি ও ঠান্ডা প্রতিরোধ করে, শ্বাস-প্রশ্বাস পরিশুদ্ধ করে। চলুন এবার জেনে নিই যে, বাড়িতে কিভাবে আপনি লেবু জল তৈরি করবেন। একটি গ্লাসে ২৫০ মিটার জল ঢালুন। যদি আপনার কোন হজমের সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে হালকা উষ্ণ জল ব্যবহার করুন।

একটি পাতি লেবু অর্ধেক কেটে সম্পূর্ণ রস ভালোভাবে জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। পানিটি তৈরি হয়ে গেলে পান করুন। সর্বাধিক ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে লেবু পানি পান করুন। এখন আমরা জেনে নেই দৈনিক কতটুকু লেবু খাওয়া উচিত। প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি লেবু প্রায় চার থেকে ছয় টেবিল চামচ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্য খাবারের মতো এই লেবুর পরিমাণ মতো খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত লেবু খেলে এর উচ্চমাত্রায় সাইটিক এসিডের কারণে দাঁতে এনামেল ক্ষয় হতে পারে। তাই খাওয়ার পর ভালো করে কুলকুচি করা উচিত। প্রতিদিন দুই থেকে তিনটির বেশি লেবু খাওয়া উচিত নয়। আমরা সবাই কম বেশি জানি অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না।

লেবু পানির উপাদান ও পুষ্টিগুণ

লেবু পানি একটি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর পানীয়, যা শরীরের জন্য নানা উপকার আনতে পারে। লেবুর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া ও লেবুতে রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অল্প পরিমাণে আইরন সহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এর পুষ্টি উপাদান গুলো শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সতেজ  রাখতে সাহায্য করে।

লেবুতে আরো রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক যৌগ। যা শরীরের ক্ষতিকর ফি রেডিক্যাল এর বিরুদ্ধে কাজ করে। এই উপাদান গুলো ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং শরীরকে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। এছাড়া লেবুতে থাকা সাইটিক অ্যাসিড হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে এবং শরীরের ভেতরের জমে থাকা টক্সিক বের করতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত লেবু পানি পান করলে, শরীরের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

গর্ভাবস্থায় লেবুর পানি খাওয়া যাবে কি

আপনি কি জানেন গর্ভাবস্থায় একটি ছোট লেবু, আপনার অনাগত সন্তানের জন্য আশীর্বাদ ও হতে পারে। আবার ভুলভাবে খেলেও সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেক মা বলেন,  লেবু না খেলে বমি বমি লাগে। লেবু দেখলেই আরাম পায়। অনেকের প্রশ্ন করেন, গর্ববস্থায় লেবু পানি খাওয়া যাবে কি এবং লেবু পানি খেলে কি হয়? প্রতিদিন লেবু পানি খাওয়া কি নিরাপদ? গর্ভাবস্থায় লেবু খাওয়ার প্রতি আকর্ষণ কেন? গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর দেখা যায়, টক খাবারের প্রতি অদ্ভুত আকর্ষণ। বিশেষ করে, লেবু, কাঁচা আম, তেতুল এর পিছনে। কারণ কি? হরমোনের পরিবর্তন। গর্ভাবস্থায় হরমোনের দ্রুত পরিবর্তন হয়। এতে বমি ভাব অরুচি, মুখে তিতা ভাব, এই সমস্যাগুলো দেখা দেয়।

লেবুর টক স্বাদ বমির ভাব দূর করে, হজমের সহায়তা করে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে লেবুকে বলা হয় প্রাকৃতিক ভিটামিন সি-এর ভান্ডার। একটি মাঝারি লেবুতে থাকে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, ফাইবার, প্রাকৃতিক অ্যাসিড এই উপাদানগুলো গর্ববস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী মহিলা লেবু খেলে কি উপকার হয় গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে অনেক মা ভোগেন মর্নিং সিকনেসে। বমি বমি ভাব, লেবুর পানি বা হালকা লেবু চাটা প্রাকৃতিকভাবেই সমস্যা কমায়। এটি একটি পরীক্ষিত ঘরোয়া চিকিৎসা। গর্ভাবস্থায় হজম দুর্বল হয়ে যায়। লেবু পাকস্থলীর এসিড ব্যালেন্স ঠিক রাখে, গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

লেবু পানি নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস

আপনি কি জানেন? প্রতিদিন লেবু পানি খেলে শরীরের ভেতরে এমন কিছু পরিবর্তন আসে। যা আপনার জীবনকে একেবারেই বদলে দিতে পারে। লেবু শুধু ভিটামিন সি এর উৎস নয়, বরং হজম থেকে শুরু করে চামড়া,  হার্ট এমনকি ওজন নিয়ন্ত্রণে অবিশ্বাস্য ভূমিকা রাখে। তবে সাবধান লেবু সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। কেউ কেউ নিয়মিত লেবু খেলে উল্টো খুঁটির মুখে পড়তে পারেন। আজকে এই ব্লগে আমরা জানবো, প্রতিদিন লেবু খেলে আসলে শরীরে কি ঘটে?  লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং পটাশিয়াম রয়েছে। লেবুর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরকে ফ্রি রেডিক্যাল থেকে রক্ষা করে।

প্রতিদিন লেবু খাওয়ার উপকারিতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ভিটামিন সি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। ফলে সর্দি কাশির সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হজমে সহায়তা করে। গরম পানিতে লেবু খেলে লিভারের এনজাইম সক্রিয় হয়। হজম সহজ হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, ওজন কমাতে সাহায্য করে, লেবুর সাইটিক অ্যাসিড শরীরের ফ্যাট বা চর্বি কমাতে সহায়তা করে। লেবুর সাথে গরম পানির মিশিয়ে খেলে শরীরে মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়। তবে যাতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তাদের না খাওয়া উত্তম।

ত্বক ও চুলের যত্নে লেবুর ব্যবহার

লেবু আমাদের সবার কাছে পরিচিত। আমরা সবাই কমবেশি লেবু খায়। আপনারা কি জানেন, লেবু ত্বক ও চুলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। কিভাবে একটি লেবু ব্যবহার করে আপনার চুলের যাবতীয় সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। এই লেবু ব্যবহার করে আপনার চুল পড়া বন্ধ করতে পারবেন। আপনার মাথায় যদি খুশকি থাকে সেটা দূর করতে পারবেন এবং চুলের বৃদ্ধি খুব দ্রুত হবে। লেব রসে রয়েছে সাইটিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ,ম্যাগনেসিয়াম। যা আপনার চুলকে দ্রুত বৃদ্ধি করবে। লেবুতে রয়েছে সাইটিক অ্যাসিড,যা চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে। যার ফলে যদি চুল পড়ার সমস্যা থাকে,তার দ্রুত সমাধান হয় এবং লেবুর রস যদি আপনার মাথায়  ঘোষেন তাহলে চলে যাবতীয় সমস্যা থেকে রক্ষা পাবেন।


লেবু পুষ্টিতে ভরপুর পুষ্টির জন্য যেমন উপকারী, তেমনি রূপচর্চার জন্য রয়েছে এর নানা ব্যবহার। ত্বকের তৈলাক্ত দূর করতে লেবুর রসের ব্যবহার- এক টেবিল চামচ লেবুর রসের সাথে এক টেবিল চামচ  শসার রস মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মুখটাকে ভালো করে ক্লিন করে নিন। এভাবে সপ্তাহে তিন দিন লাগালে মুখের তৈলাক্ত দূর হয়। ব্রনের দাগ দূর করতে লেবুর রসের ব্যবহার- এক টেবিল চামচ লেবুর রসের সাথে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। তারপর এটি পুরো মুখে লাগান। আধা ঘন্টা পর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন লাগালে ব্রণের দাগ দূর হয়ে যাবে।  ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে লেবুর রস সহায়তা করে।

ওজন কমাতে লেবু পানির ব্যবহার

ওজন কমানোর ব্যাপারে বেশ প্রচলিত একটি ধারণা হলো লেবু পানি ওজন কমায়। লেবু পানি খেয়ে কি আসলেই ওজন কমে? লেবু পানিতে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এন্ড ডি-অক্সিফাইড ইফেক্ট। কাজেই সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে পান করলে, সেটা আপনার শরীরকে সতেজ রাখে, হজমে সহায়তা করে, ওজন কমাতে কি লাগে? ওজন কমানোর জন্য দরকার ক্যালোরি ঘাটতি পূরন, প্রচুর ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্ট্রেস কন্ট্রোল। প্রথম লেবু খেলে আপনার যে উপকারটি হবে, সেটি হল আপনার যদি ফ্যাটি লিভার থাকে।

ফ্যাটি লিভারটা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। যাদের কোলেস্টেরল আছে, তাদেরও খুব উপকার হয়। কোলেস্টেরল কন্ট্রোলে থাকে এবং ওজন কমাতে খুবই সাহায্য করে। এই সব কয়টা জিনিসের সম্ভব হয় কারণ লেবু খাওয়ার পরে, তোমার ব্লাডে যে সুগার থাকে। সেই সুগারটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়াও রিসার্চে দেখা গেছে, যে লেবু জল ক্যান্সারের জন্য খুব ভালো কাজ করে। তখন বেশি বেশি লেবুর পানি পান করতে হবে। এমনকি হাফ কাপের বেশিও।  প্রতিদিন সকালে খালি পেটে লেবু পানি খাবা ওজন কমানোর একটি খুবই কার্যকরী টিপস।

লেবু পানির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

লেবু পানি যেমন উপকারী, তেমনি এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আজকের ব্লগে আমি শেয়ার করব, অতিরিক্ত লেবু খেলে কি কি সমস্যা হতে পারে এবং কাদের জন্য খাওয়া ঠিক নয় তা বিস্তারিত আলোচনা করব। লেবুর ক্ষতিকর দিকগুলো- অতিরিক্ত লেবু খাওয়ার ফলে আপনার গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার যদি গ্যাস্ট্রিক এসিডিটি বা হজমের সমস্যা থাকে, তাহলে লেবু পানি থেকে দূরে থাকুন। যাদের গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটি ইত্যাদি সমস্যা থাকে, তারা সকালে খালি পেটে কখনোই লেবু বা লেবু পানি পান করবেন না। এটি আপনাকে ভরা পেটে লেবু পানি পান করতে হবে। অনেকেই সকালে খালি পেটে লেবু পানি পান করেন। এটি অনেকের জন্য ভালো আবার অনেকের জন্যই খারাপ। এতে মারাত্মক বিপদও হতে পারে।

অতিরিক্ত লেবু পানি খাওয়ার পর যদি কোন সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই এটি এড়িয়ে চলবেন। অতিরিক্ত সাইট্রিক এসিড দাঁতের এনাবেল নষ্ট করে। দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত লেবু বা লেবু পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকু।  অতিরিক্ত লেবু খাওয়ার ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত আইরন জমা হয়। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। লেবুতে থাকা সাইটিক অ্যাসিড কখনো কখনো শরীরে মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে তারা বুঝে শুনে লেবু খাবেন। অতিরিক্ত লেবু খাওয়ার ফলে আপনার বমি বমি ভাব, এলার্জি সমস্যা ও হতে পারে। লেবু খাওয়ার ফলে যদি আপনার শরীরে চুলকানি বা এর্লাজি সমস্যা দেখা যায় তাহলে লেবু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

শেষ কথাঃ লেবু পানি কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়

এই আর্টিকেলে লেবু পানি কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়? লেবু পানির উপকারিতা, খালি পেটে লেবু পানি খাওয়ার নিয়ম, লেবুর উপাদান ও পুষ্টিগুণ, লেবুর সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও গর্ব অবস্থায় লেবূ পানি খাওয়া যাবে কি? নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওজন কমাতে লেবু পানির ব্যবহার, চুল ও ত্বকের যত্নে লেবু পানির ব্যবহার বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, আপনি যদি সম্পূর্ণ ব্লকটি মনোযোগ সহকারে পড়েন। তাহলে আপনি লেবু পানি কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়, সেগুলো বিস্তারিত বুঝতে পারবেন।

ব্লগটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং উপকারে আসে, তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।  আপনার কোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানান। আপনার  মূল্যবান মতামত আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আমাদের আরও ভালো কনটেন্ট লিখতে অনুপ্রাণিত করে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রুমি টিপস আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Mst Rumi
Mst Rumi
রুমি টিপস আইটি একটি টেক ও ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ক ব্লগ। এখানে ব্লগিং, SEO, অনলাইন ইনকাম, ডিজিটাল মার্কেটিং ও টেকনোলজি সম্পর্কিত সহজ টিপস ও গাইড শেয়ার করা হয়। নতুনদের জন্য সহজ ভাষায় তথ্য উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।