শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়
একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়। এই পোস্টে শুষ্ক হাত কেন হয় , কোন ধরনের লোশন সবচেয়ে ভালো, লোশন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম, ঘরোয়া উপায়ে, হাতের শুষ্কতা দূর করুন , রাতে ত্বকে লোশন লাগানোর উপকারিতা, রাতে কিভাবে লোশন ব্যবহার করবেন, ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এই গাইডে।
এই আর্টিকেলে একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়। সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি সহজ ও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেন আপনারা এর সঠিক ব্যবহার বুঝতে পারেন। তাই বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
পেজ সূচিপত্র ঃ শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়
- শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়
- শুষ্ক হাত কেন হয়
- কোন ধরনের লোশন সবচেয়ে ভালো
- লোশন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
- ঘরোয়া উপায়ে হাতের শুষ্কতা দূর করুন
- রাতে ত্বকে লোশন লাগানোর উপকারিতা
- রাতে কিভাবে লোশন ব্যবহার করবেন
- কোন লোশন এড়িয়ে চলবেন
- রাতে গ্লাভস ব্যবহার করলে কি হয়
- শেষ কথাঃ একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়
শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়
একদম শুষ্ক হাতের সমস্যাটা যারা ভোগে, তারা আসলে বুঝতে পারে কতটা অস্বস্তিকর
এই বিষয়টা। অনেক সময় দেখা যায় হাত এতটাই রুক্ষ হয়ে যায় যে ধরা পর্যন্ত
অস্বস্তি লাগে। এমনকি হালকা ফাটাও ধরে যায়। আপনার আপনারা অনেকেই প্রশ্ন করেন
যে, একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়? দিনে যত লোশন ব্যবহার হোক
না কেন, রাতে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে তেমন কোন পরিবর্তন চোখে পড়ে না। আমার
নিজের অভিজ্ঞতা থেকেও বলছি হালকা ধরনের লোশন দিয়ে কোন কাজ হয় না বরং একটু
ভারি ঘন ধরনের লোশন ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। বিশেষ করে, যেগুলোতে
গ্লিসারিন, শিয়া বাটার বা ভ্যাসলিনের মতো উপাদান থাকে সেগুলো হাতের ভেতরের
আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে হাত ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে
নিয়ে তারপর একটু বেশি পরিমাণে লোশন লাগিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করলে সেটা
ত্বকের ভেতরে ঢুকে কাজ করে। এই সময়টাতে ত্বক বিশ্রামে থাকে। তাই লোশন ও
ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ পাই।
আরো পড়ুনঃ লেবু পানি কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়
আরেকটা জিনিস আমি সব সময় লক্ষ্য করেছি, যদি শুধু লোশন লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া
হয়, তাহলে অনেক সময় সেটার পুরো উপকার পাওয়া যায় না। কিন্তু লোশন লাগানোর পর
যদি হালকা কটন গ্লাভস পড়ে ঘুমানো যায় তাহলে ফলটা অনেক বেশি ভালো পাওয়া যায়।
এতে করে লোশনটা সারারাত হাতের উপরে থাকে এবং বাহিরে থেকে কোন ধুলাবালি বা
ঠান্ডা বাতাস হাতকে প্রভাবিত করতে পারে না। অনেকেই ভাবেন দামি লোশন না হলে কাজ
করবে না, কিন্তু আসলে কি তাই? সঠিক উপাদান থাকলে যে কোন ভালো মানের লোশন কাজ
করে। নিয়মিত এই অভ্যাসটা কয়েকদিন মেনে চললে দেখা যাবে হাতে সেই খসখসে ধীরে
ধীরে কমে যাচ্ছে। আর হাত আগের মত নরম হতে শুরু করছে। তাই যদি সত্যি ভালো ফলাফল
পেতে চান তাহলে রাতে সময়টাকে একটু গুরুত্ব দিন। কারণ এই সময়টা ঠিক হওয়ার
জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
শুষ্ক হাত কেন হয়
শুষ্ক হাত হওয়ার বিষয়টা আমরা অনেকেই খুব হালকাভাবে নেই, কিন্তু এর পিছনে
আসলে বেশ কিছু কারণ কাজ কর। যেগুলো আমরা প্রতিদিনই করি, কিন্তু খেয়াল
করি না। সবচেয়ে বড় কারণ হলো বারবার হাত ধোয়া। বিশেষ করে, সাবান বা
হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে এগুলো হাত পরিষ্কার রাখলেও ধীরে ধীরে ত্বকের প্রাকৃতিক
তেলটাকে তুলে ফেলে। যার ফলে হাত শুকিয়ে যেতে শুরু করে। এর সাথে যদি ঠান্ডা
আবহাওয়ায় যুক্ত হয় তাহলে সমস্যা আরো বেড়ে যায়। কারণ শীতকালে বাতাসে
আর্দ্রতা কম থাকে। ফলে ত্বক খুব সহজেই তা নরম ভাব হারিয়ে ফেলে এবং খসখসে হয়ে
যায়। অনেক সময় আমরা বাসার কাজ করতে গিয়ে ডিটারজেন্ট বা বিভিন্ন কেমিক্যাল
ব্যবহার করি। যেগুলো হাতের ত্বকের ওপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলে। এগুলো ত্বকের
উপরিভাগকে দুর্বল করে দেয় এবং ধীরে ধীরে হাতের চামড়া ফেটে যাওয়ার মত
অবস্থায় নিয়ে যায়। এসব কারণ একসাথে মিলেই হাতকে একদম রুক্ষ ও প্রাণহীন
করে তোলে। যা দেখতে যেমন খারাপ লাগে, তেমনি অনুভব করতেও অস্বস্তিকর।
আরেকটি বিষয় অনেকে খেয়াল করে না, সেটা হলো আমাদের নিজের যত্নের অভ্যাস।
অনেকেই হাত ধোয়ার পর আর কোন মশ্চারাইজার ব্যবহার করেন না। ফলে হাত ধোয়ার পর
যে সামান্য আদ্রতা থাকে, সেটাও দ্রুত শুকিয়ে যায়। এছাড়া শরীরে পানির ঘাটতি
থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। কারণ ভেতর থেকে যথেষ্ট হাইড্রেশন না পেলে বাইরে
যতই লোশন লাগানো হোক তেমন কাজ করে না। কিছু মানুষের ত্বক আবার স্বাভাবিকভাবে
একটু বেশি ড্রাই স্কিন হয়। তাই তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরো বেশি দেখা যায়।
পুষ্টির ঘাটতি, বিশেষ করে ভিটামিনের অভাব থাকলেও ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা
হারিয়ে ফেলে। সব মিলিয়ে দেখা যায়, শুষ্ক হাত কোন এক দিনে হয় না, এটি ধীরে
ধীরে তৈরি হয়। আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণে তাই এই কারণগুলো আগে বুঝতে
পারলে, পরবর্তীতে খুব সহজেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।
কোন ধরনের লোশন সবচেয়ে ভালো
শুষ্ক হাতের জন্য কোন লোশন ভালো হবে, এই প্রশ্নটা এক কথায় উত্তর দিলে ভুল
হবে। কারণ, সব লোশন একরকম কাজ করে না। আসলে ভালো লোশন বলতে আমরা যেটা বুঝি,
সেটা এমন হওয়া উচিত যেটা ত্বকের ভেতরে গিয়ে আদ্রতা ধরে রাখতে পারে। শুধু উপরে
একটা লেয়ার তৈরি করে না। অনেকে হালকা লোশন ব্যবহার করে, কিন্তু খুব dry হাতের
জন্য এগুলো বেশিক্ষণ কাজ করে না বরং একটু ঘন Creamy টাইপের লোশন ব্যবহার করলে
ভালো ফল পাওয়া যায়। বিশেষ করে, যেসব লোশনে Glycerin, Ceramide, Shea
butter বা Natural Oil থাকে। সেগুলো হাতকে ভেতর থেকে Norish করে এবং
দীর্ঘ সময় নরম রাখে। যেমন CeraVe Repairing Hand Cream এর মতো ক্রিমে
ত্বকের barrier ঠিক রাখার উপাদান থাকে। যার শুষ্কতা কমাতে সাহায্য
করে।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল লোশনটা কতটা সময় ধরে কাজ করছে। অনেক লোশন আছে
যেগুলো লাগানোর কিছুক্ষণ পরেই শুকিয়ে যায়। তখন আবার হাত আগের মত রুক্ষ লাগে।
তাই এমন লোশন বেছে নেওয়া উচিত, যেটা Long-Lasting Hydration দেয়। যেমন
Lubriderm Intense Skin Repair Lotion এর মত কিছু লোশন 48 ঘন্টা পর্যন্ত
ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এবং ত্বকের Moisture barrier শক্ত
রাখে। আবার Neutrogena Norwegian Formula Hand Cream এ
glycerin বেশি থাকার কারণে, এটি খুব দ্রুত শুষ্ক হাতকে সফ্ট করে তোলে
এবং কম পরিমাণে ভালো কাজ করে। তাই নিজের ত্বকের ধরন বুঝে, যদি একটু ঘন,
পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ লোশন বেছে নেওয়া যায়। তাহলে খুব সহজেই শুষ্ক হাতের সমস্যা
অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কোন ধরনের লোশন সবচেয়ে ভালো
লোশন ব্যবহার করা অনেকেই খুব সহজ একটা কাজ মনে করেন। হাতে লাগালেই হলো, কিন্তু
আসলে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে যত ভালো লোশনই হোক না কেন, তেমন কোন ফল পাওয়া
যায় না। আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগে আমি হাত ধোয়ার পরেই তাড়াহুড়ো
করে লোশন লাগিয়ে ফেলতাম। যেমন Vaseline Healthy Hands বা Nivea Soft
কিন্তু তাতে খুব একটা পার্থক্য বুঝতাম না। পরে বুঝলাম, প্রথমেই হাত ভালোভাবে
পরিষ্কার করে নিতে হবে এবং পানি যেন একদম না থাকে সেভাবে শুকাতে হবে। কারণ ভেজা
হাতে লোশন দিলে সেটা ঠিকভাবে ত্বকের ভেতরে ঢুকতে পারেনা। এরপর পর্যাপ্ত
পরিমাণে লোশন নিয়ে শুধু হাতের তালুতে শুধু নয় বরং আঙ্গুলের ফাঁক, নখের
চারপাশ, সব জায়গায় ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করতে হয়। একটু সময় নিয়ে করলে নতুন
ভালোভাবে শোষিত হয়। এবং তখন তা গ্রহণ করতে পারে। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো অনেকেই
এড়িয়ে যায়। কিন্তু এগুলোর আসলে বড় পার্থক্য তৈরি করে।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় নির্বাচন। দিনে যে কোন সময় লোশন লাগানো
যায় ঠিকই। কিন্তু সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে রাতে ঘুমানোর আগে। এই সময়টা ত্বকের
জন্য একদম পারফেক্ট। কারণ তখন কোন ধুলাবালি বা কাজের চাপ থাকে না। আমি নিজেও
যখন থেকে রাতের নিয়ম করে লোশন Nivea Intensive Moisture বা Neotrogena
Hand Cream ব্যবহার করা শুরু করেছি। তখন থেকেই হাতের পরিবর্তনটা বেশি টের
পেয়েছি। লোশন লাগানোর পর যদি সম্ভব হয় হালকা করে কয়েক মিনিট ম্যাসাজ করা
উচিত। যাতে সেটা পুরোপুরি ত্বকের ভেতরে ঢুকে যায়। অনেকে আবার একটু বেশি লোশন
লাগিয়ে রাখে, এটা খারাপ নয়। বিশেষ করে যদি হাত বেশি শুষ্ক হয়, চাইলে এরপর
একটা পাতলা কটন ক্লাবস পড়ে নেওয়া যায়। এতে লোশনটা সারারাত কাজ করতে পারে। সব
মিলিয়ে লোশন ব্যবহার শুধু লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না, সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার
করলেই আসল উপকার টা পাওয়া যাবে।
ঘরোয়া উপায়ে হাতের শুষ্কতা দূর করুন
হাতের শুষ্কতা দূর করতে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি আছে। যা আমি নিজেও প্রায় প্রতিদিন
ব্যবহার করি। এগুলো কোন কেমিক্যাল এর উপর নির্ভরশীল নয়। তাই সম্পূর্ণ নিরাপদ।
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা। রাতে ঘুমানোর আগে
হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল মাখিয়ে হালকা ম্যাসাজ করলে ত্বকের ভিতরের আর্দ্রতা
ধরে থাকে। তো শুধু হাতের তালু ও নয় আঙ্গুলের ফাঁক, নখের চারপাশ এবং কুনই পর্যন্ত
ভালোভাবে মেখে নিতে হবে। এতে রাতভর ত্বক পুষ্টি পায়। এবং সকালে হাত অনেক বেশি
নরম ও মসৃণ মনে হয়। আমি নিজেও কয়েকদিন ব্যবহার করার পর লক্ষ্য করেছি, সেই
রুক্ষ ভাব কমে গেছে।
আরো পড়ুনঃ মধু কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়
আরেকটি ঘরোয়া উপায় হল অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা। এটি শুধু ত্বক নরম করে
না, হাতে খসখসে ভাব কমিয়ে দেয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত ঠিক হতে সাহায্য
করে। মধুও খুব ভালো কাজ করে। হাতের ত্বকের ওপর হালকা করে মধু লাগিয়ে রেখে কিছু
সময় ধরে রেখে ধুয়ে নিলে আদ্রতা অনেক ভালোভাবে ধরে থাকে। দুধের ক্রিম ব্যবহার
করা যেতে পারে। যা প্রাকৃতিক ফ্যাট সমৃদ্ধ এবং হাতে গভীরভাবে পুষ্টি দেয়।
এগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে হাতের শুষ্কতা ধীরে ধীরে কমে যায় এবং হাত
আগের চেয়ে অনেক বেশি নরম ও স্বাস্থ্যবান দেখায়। এ ছাড়া এই পদ্ধতি গুলো এত সহজ যেকোনো বয়সের মানুষ সহজেই করতে পারে। আর
কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও হয় না। নিয়মিত অভ্যাস করে তুললেই হাতে সুস্থতা
দীর্ঘমেয়াদি ধরে রাখা সম্ভব।
রাতে ত্বকে লোশন লাগানোর উপকারিতা
রাতে ত্বকে লোশন লাগানোর অভ্যাসটা আমার কাছে একদম অপরিহার্য মনে হয়। বিশেষ
করে, শুষ্ক বা রুক্ষ ত্বকের জন্য। দিনে আমরা যত যত্ন করি না কেন, কাজের
ধুলো রোদ বা বাতাসে থাকা দূষণ আমাদের ত্বককে অনেক ক্ষতি করে। সেই ক্ষতিগুলো
সরানোর জন্য রাতটাই যে উপযুক্ত সময়। রাতে যখন আমরা ঘুমাই তখন আমাদের ত্বক নিজে
নিজে রিপেয়ার শুরু করে। আমি নিজেও লক্ষ্য করেছি, যখন রাতের সময় ঘন লোশন বা
ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করি। তখন সকালে অনেক নরম সতেজ এবং প্রাকৃতিক
ভাবে উজ্জ্বল মনে হয়। এই সময় লোশন ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। যা দিনের
বেলায় সম্ভব হয় না। শুধু ত্বক নরম হয় না বরং এটি ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখে এবং
দূষণ থেকে সুরক্ষা করে।
যারা শীতকালে বা ভ্যাপারযুক্ত বাতাসে বেশি সময় কাটান, তাদের জন্য রাতে
লোশন ব্যবহার করা এক ধরনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়। এছাড়া ঘন লোশন বা বডি
ক্রিম ব্যবহার ব্যবহার করলে ত্বকের উপরের অংশ দীর্ঘ সময় হাইড্রেট থাকে। আমি
নিজে দেখেছি, নিয়মিত রাতের যত্নের ফলে হাত এবং মুখের ত্বক আগের মত রুক্ষ থাকে
না বরং কোমল ও মসৃণ থাকে। এছাড়া রাতের সময় লোশন লাগানোর পর হালকা মেসেজ করলে,
এটি আরো কার্যকারী হয়। এটি শুধু ত্বকের আদ্রতা দেয় না বরং ত্বকের
ইলাস্ট্রিসিটি বাড়িয়ে ফেলে এবং বয়সে চাপ কমিয়ে দেয়। তাই রাতের লোশন
ব্যবহারকে আমি কখনোই উপেক্ষা করি না। এটি ত্বকের জন্য একদম প্রাকৃতিক ও কার্যকর
উপায়।
রাতে কিভাবে লোশন ব্যবহার করবেন
রাতে লোশন ব্যবহার করা আসলে এক ধরনের রুটিন, যা আমি নিজেও নিয়মিত মেনে চলি।
অনেকেই শুধু হাতে হাত মেখে লোশন লাগিয়ে ফেলে। কিন্তু সঠিক পদ্ধতি মানলে ত্বকের
পরিবর্তন অনেক দ্রুত চোখে পড়ে, প্রথমে হাত বা ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। হাত
ধোয়ার পর হালকা তোয়ালে দিয়ে পুরোপুরি শুকিয়ে নিই। যাতে কোন পানি না থাকে।
কারণ ভেজা ত্বকে লোশন ঠিক ভাবে শোষিত হয় না। এরপর পর্যাপ্ত পরিমাণ লোশন নিয়ে
হাতের তালু, আঙ্গুল, নখের চারপাশ সব জায়গায় হালকা করে ম্যাসাজ করতে হবে। আমি
দেখেছি ধীরে ধীরে মেসেজ করলে লোশন ত্বকের ভেতর ঢুকে যায়। এবং সারা রাত কাজ করতে
থাকে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লোশন লাগানোর পর সময় দেওয়া। রাতের এই সময়টা
ত্বকের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। কারণ তখন ত্বক বিশ্রামে থাকে এবং বাইরের কোন চাপ
থাকে না। আমি নিজেও ঘন লোশন বা ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করি এবং প্রায় 5
থেকে 10 মিনিট হালকা ম্যাসাজ দিয়ে তা পুরো হাতে ছড়িয়ে দিই। কেউ চাইলে পরে
পাতলা কটন গ্লাভস পড়তে পারেন। যাতে লোশন সারারাত হাতের হাতে থেকে গভীরভাবে কাজ
করে। আগের চেয়ে অনেক নরম, মসৃণ এবং সুস্থ রাখে। নিয়মিত অভ্যাসের ফলে ত্বক দীর্ঘ
সময় হাইড্রেট থাকে। ফাটা ভাব কমায় এবং হাতের সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়। তাই রাতে
লোশন ব্যবহারকে কখনো হালকা ভাবে দেখা উচিত নয়।
কোন লোশন এড়িয়ে চলবেন
শুষ্ক হাতের জন্য লোশন বেছে নেওয়ার সময় সব সময় মনে রাখতে হবে, সব লোশনই সমান
ভালো নয়। আমি নিজেও আগে অনেক লোশন ব্যবহার করেছি। কিন্তু পরে লক্ষ্য করলাম, কিছু
লোশন হাতকে আরো শুষ্ক করে তোলে। বিশেষ করে, যেসব লোশনে বেশি সুগন্ধি, কৃত্রিম রং
বা অ্যালকোহল থাকে। সেগুলো শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য মোটেও ভালো নয়। এগুলো
ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয় এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে, তখন খসখসে ও
ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আমি নিজেও আগে সস্তা বা Fragrance-heavy
ব্যবহার করতাম। দেখলাম, সুস্থতা কমার বদলে আরো বেড়ে গেছে।
আরেকটি বিষয় হলো light বা water-based লোশন অনেক সময় আমরা ভাবি হালকা
লোশন ব্যবহার করলেই হবে। কিন্তু একদম সুস্থ থাকার জন্য এগুলো পর্যাপ্ত নয়। এগুলো
ত্বকের উপরের স্তরের কাজ করে এবং দ্রুত শুকিয়ে যায়। তাই যদি হাত খুব সুস্থ
রাখতে হয় তাহলে thick, creamy বা nourishing লোশন ব্যবহার করা উচিত।
যাতে ত্বকের ভিতরে আদ্রতা ধরে থাকে। আমি নিজেও এখন শুধু এমন লোশনই ব্যবহার করি।
যেগুলো গ্লিসারিন, সিয়া বাটার বা ভিটামিন ই থাকে। এগুলো হাতকে সারারাত হাইড্রেট
রাখে। আর সকালে হাত নরম ও মসৃণ ভাবটা চোখে পড়ে। তাই সঠিক লোশন নির্বাচন না করলেও
শুষ্ক হাতের সমস্যার কোন সমাধান পাওয়া যায় না। নিয়মিত এবং সঠিক লোশন ব্যবহার
করলে হাত স্বাস্থ্যবান কোমল ও সুন্দর থাকে।
রাতে গ্লাভস ব্যবহার করলে কি হয়
রাতে ঘন লোশন লাগানোর পরে হাতে পাতলা গ্লাভস পড়ে একদম চমৎকার ফল পাওয়া যায়। আমি
নিজেও শুরুতে ভাবিনি, কিন্তু যখন থেকে অভ্যাসটা করেছি ততক্ষণে হাতে শুষ্কতা অনেক
কমেছে। গ্লাভস সারারাত লোশনকে হাতের সঙ্গে লক করে রাখে। ফলের লোশন পুরোপুরি শোষিত
হয় এবং হাতের ত্বকে গভীরভাবে পুষ্টি পৌঁছায়। এবং গভীরভাবে কাজ করতে পারে। অনেক
সময় আমরা হাতের তালুতে শুধু লোশন মেখে ঘুমিয়ে যায় কিন্তু অনেকটা লোশন নরম
হওয়ার আগে রাত হয়ে যায়। গ্লাস ব্যবহার করলে লোশন সারারাত হাতের ভেতরে থাকে।
তাই ত্বকের আদ্রতা ধরে থাকে এবং সকালে হাত অনেক নরম হয়। গ্লাভস ব্যবহার করলে
শুধু লোশন কাজে লাগে না এটি হাতকে বাইরে ঠান্ডা ধুলোবালি এবং বাতাস থেকে সুরক্ষা
দেয়।
আরো পড়ুনঃ আরবি মাসের ক্যালেন্ডার ২০২৬
শীতকালে হাতে পানি কম থাকে এবং বাতাসের কারণে হাত দ্রুত শুকিয়ে যায়। এছাড়াও
গ্লাস হাতকে বাইরে ঠান্ডা বা বাতাস থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু অনেক কমে গিয়েছে।
আমি নিজেও লক্ষ্য করেছি যখন রাতে গ্লাভস পড়ি, আমি তখন সকালে হাতের ত্বক শুধু নরমই
থাকে না বরং উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান একদম অপরিহার্য। নিয়মিত গ্লাভস ব্যবহার করলে
লোশন আরো কার্যকর হয়। দীর্ঘ সময় হাইড্রেট থাকে। গ্লাভস পড়া আমার নিজের রুটিনে
সব সময় অন্তর্ভুক্ত করি।
শেষ কথাঃ একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়
এই আর্টিকেলে একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়, শুষ্ক ত্বক কেন
হয়, কোন ধরনের লোশন সবচেয়ে ভালো, লোশন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ঘরোয়া উপায়ে,
হাতের শুষ্কতা দূর করুন, রাতে ত্বকে লোশন লাগানোর উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা
হয়েছে। পাশাপাশি রাতে কিভাবে লোশন ব্যবহার করবেন, কোন লোশন এড়িয়ে
চলবেন, রাতে গ্লাভস ব্যবহার করলে কি হয় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং
বলা যায় যে, আপনি যদি সম্পূর্ণ ব্লকটি মনোযোগ সহকারে পড়েন। তাহলে
আপনি একদম শুষ্ক হাত হলে কোন লোশন রাতে দিলে ঠিক হয়, সেগুলো বিস্তারিত বুঝতে পারবেন।
ব্লগটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং উপকারে আসে, তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে
শেয়ার করুন। আপনার কোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানান।
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি
আমাদের আরও ভালো কনটেন্ট লিখতে অনুপ্রাণিত করে।
.webp)
রুমি টিপস আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url