এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল বারবার রিজেক্ট হওয়ার কারণ কি
এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল বারবার রিজেক্ট হওয়ার কারণ কি? এই পোস্টে এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল কি, গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রভাল পাওয়ার সুবিধা, গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল না পেলে কি করবেন, এডসেন্স অ্যাপ্লাই করার আগে আপনার সাইটে যা যা চেক করা বাধ্যতামূলক ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এই গাইডে।
এই আর্টিকেলে এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল বারবার রিজেক্ট হওয়ার কারণ কি, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি সহজ ও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেন আপনারা এর সঠিক কারণটা বুঝতে পারেন। তাই বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।পেজ সূচিপত্রঃ এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল বারবার রিজেক্ট হওয়ার কারণ কি
- এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল বারবার রিজেক্ট হওয়ার কারণ কি
- গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রভাল পাওয়ার সুবিধা
- এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল কি
- গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল না পেলে কি করবেন
- লো ভ্যালু কনটেন্ট সমস্যা সমাধানের সহজ উপায়
- দ্রুত এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পাওয়ার গোপন কৌশল
- মানসম্মত কনটেন্ট লেখার সঠিক এসিও নিয়ম
- পলিসি ভায়োলেশন এড়ানোর কার্যকরী টিপস
- এডসেন্স আবেদনের আগে যা চেক করবেন
- শেষ কথাঃ এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল বারবার রিজেক্ট হওয়ার কারণ কি
এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল বারবার রিজেক্ট হওয়ার কারণ কি
শুরুতে আমি যখন ব্লগিং করি, তখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল গুগল এডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করা। অনেক কষ্ট করে কয়েকটা পোস্ট লিখে আমি দ্রুত আ্যাপ্লাই করে ফেলেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন পর যখন দেখি Rejected লেখা আসছে, তখন সত্যি বলতে অনেক হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমে মনে হচ্ছিল হয়তো ভাগ্য খারাপ বা google নতুনদের সুযোগ দেয় না। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে বুঝতে পারি আসলে সমস্যা গুগলের না, সমস্যা আমার নিজের ব্লগেই ছিল।
আমি তখন ভালো করে লক্ষ্য করি, আমার পোস্ট অনেক ছোট ছিল, কিছু পোস্টে ঠিকমতো ব্যাখ্যা করা ছিল না, আবার কিছু জায়গায় অন্য সাইট দেখে আইডিয়া নিয়ে লিখেছিলাম। google আসলে খুব সহজেই বুঝতে পারে কোন কন্টেন্ট আসল আর কোনটা শুধু নামের জন্য লেখা। আর তখনই তারা Low value content বা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে Reject করে দেয়। এছাড়া আমি তখন ব্লগে ঠিকমত About, Contact, Privacy policy পেজ ও রাখিনি।
আরো পড়ুনঃ গ্রামে বসে অনলাইনে ইনকাম করার বাস্তব উপায়
পরে বুঝলাম এগুলো শুধু ফরমাল কিছু না এগুলো গুগল এর কাছে একটা টাস্ট ফ্যাক্টর মানে গুগল দেখতে চাই এই ব্লগের পেছনে আসলে কেউ কাজ করছে কিনা নাকি শুধু অ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য বানানো একটা সাইট। এই ছোট ছোট ভুলগুলোর জন্য আসলে বারবার রিজেক্ট হচ্ছিলাম। কিন্তু তখন সেটা বুঝতে পারিনি। এরপর আমি সিদ্ধান্ত নিই আবার নতুন করে সবকিছু ঠিক করবো। আমি প্রতিটি পোস্ট নতুন করে লিখতে শুরু করি আগে চেয়ে বড় করি, নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করি যেন কেউ পড়লে সত্যি কিছু শিখতে পারে।
আমি বুঝতে পারলাম শুধু পোস্ট লিখলেই হবে না, পোস্ট মানুষের কাজে লাগতে হবে। তারপর আমি ব্লগে প্রয়োজনীয় সব পেজ যোগ করি, ডিজাইন একটু ঠিক করি, মোবাইল ফ্রেন্ডলি করি। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন যেটা করেছি সেটা হলো ধৈর্য রাখা। আগে ৬-৭টা পোস্ট লিখে আ্যাপ্লাই করতাম এখন কমপক্ষে ৩০টা পোষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। আরেকটা জিনিস খেয়াল করেছি গুগল শুধু কনটেন্ট দেখে না, দেখে তুমি কতটা সিরিয়াস তারা বুঝতে পারে। তুমি নিয়মিত কাজ করছো, তাহলে তারা তোমার ব্লগকে গুরুত্ব দেয়।
অবশেষে যখন আবার আ্যাপ্লাই করি তখন অ্যাপ্রুভাল পেয়ে যাই। তখন বুঝলাম এডসেন্স পাওয়া কঠিন কিছু না শুধু সঠিকভাবে কাজ করতে হয়। তাই আমি সব সময় বলি বারবার রিজেক্ট হওয়া মানে তুমি ভুল পথে আছো। একটু থেমে নিজের ভুলগুলো ঠিক করো দেখবে আ্যাপ্রুভাল পেয়ে যাবে।
গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রভাল পাওয়ার সুবিধা
গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল মানে শুধু ব্লগে বিজ্ঞাপন বসানো না, এটা আসলে একটা বড় অর্জন। অনেকেই ভাবে এডসেন্স পেলে টাকা আসা শুরু হবে কিন্তু এর পেছনে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। যখন google তোমার ব্লগকে অ্যাপ্রুভ করে তখন তারা আসলে তোমার কন্টেন্টের মানকে স্বীকৃতি দেয়। মানে তুমি যে কষ্ট করে লেখা লিখছো, সেটা গুগল গ্রহণ করে। এই জিনিসটা একজন ব্লগারের জন্য অনেক বড় মোটিভেশন হিসেবে কাজ করে।
আমি নিজে যখন প্রথম এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পাই, তখন সত্যি বলতে অনেক খুশি হয়েছিল। কারণ তখন মনে হয়েছিল আমার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। অনেক রাত জেগে লেখা কনটেন্ট ঠিক করা সবকিছুর একটা ফল পাওয়া যায়। তখন এই অনুভূতিটা যারা পায়, তারাই বুঝতে পারে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তুমি নিজের ব্লগ থেকে ইনকাম করতে পারো। কিন্তু শুধু ইনকামই সব না, এর সাথে আরো অনেক সুবিধা আছে। যেমনঃ ব্লগে বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ে যায়, গুগলের কাছে সাইটের ভ্যালু বাড়ে, ভিজিটরদের কাছে সাইটটি ট্রাস্টেড মনে হয়, ভবিষ্যতে অন্য ইনকামের সুযোগ তৈরি হয়।
অনেক সময় দেখা যায় এডসেন্স ছাড়া ব্লগকে কেউ তেমন গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু যখন অ্যাডসেন্স থাকে তখন অন্যরাও বুঝতে পারে এই সাইটটা সিরিয়াস ভাবে তৈরি করা হয়েছে। আরেকটা বড় সুবিধা হলো তুমি নিজের মতো করে কাজ করতে পারো, এখানে কোনো অফিস টাইম নেই, কোনো বস নেই। তুমি চাইলে দিনে ২-৩ ঘন্টা কাজ করতে পারো বা ৫ ঘন্টা সব তোমার উপর নির্ভর করে। এই ফ্রিডমটাই আসলে অনলাইন ইনকামের সবচেয়ে বড় সুবিধা। ধীরে ধীরে কি হয় জানো? তোমার ব্লগে ভিজিটর বাড়তে থাকে, আর ইনকামও বাড়তে থাকে।
শুরুতে হয়তো ইনকাম খুব কম হবে কিন্তু নিয়মিত কাজ করলে সেটা ধীরে ধীরে বড় হয়ে যায়। আমি নিজেও দেখেছি প্রথমে কয়েক ডলার আসতো পরে সেটা বাড়তে শুরু করে। এছাড়া এডসেন্স থাকলে তুমি আরো কিছু কাজ করতে পারো। যেমনঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পন্সরড পোস্ট, নিজের সার্ভিস প্রমোট করা। মানে এক কথায় এটা শুধু একটা ইনকাম সোর্স নয় বরং একটা দরজা। যেখান থেকে আরো অনেক সুযোগ আসে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এডসেন্স পাওয়ার পর তুমি আরো সিরিয়াস হয়ে যাও কারণ তুমি বুঝতে পারো এই কাজটা থেকে আসলে কিছু করা সম্ভব হলে তুমি আরো ভালো কনটেন্ট লেখার চেষ্টা করো।
নতুন কিছু শিখুন, ডেভেলপ করো। আরেকটি জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি, অ্যাপ্রুভাল পাওয়ার পর ব্লগিংটা আর শুধু শখ থাকে না, এটা একটা প্রফেশনাল কাজের মতো হয়ে যায়। সবকিছু মিলিয়ে বলতে গেলে গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পাওয়ার মানে শুধু টাকা ইনকাম না, বরং নিজের কাজের স্বীকৃতি, স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ এবং ধীরে ধীরে একটা স্থায়ী ইনকামের পথ তৈরি হয়। তাই যদি কেউ ব্লগিং করে তার জন্য এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট। একটু ধৈর্য ধরে কাজ করলে এটা পাওয়া কঠিন কিছু না। আর একবার পেয়ে গেলে পুরো জার্নিটাই বদলে যায়।
এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল কি
অনেকেই ব্লগিং শুরু করার পর এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল কথাটা বারবার শুনেন। কিন্তু আসলে এটা কি জিনিস? শুরুতে আমিও ঠিকমতো বুঝতে পারেনি। আমিও যখন প্রথম ব্লগিং শুরু করি তখন শুধু শুনতাম এডসেন্স পেলে টাকা ইনকাম করা যায়। তখন মনে হতো শুধু একটা ব্লগ বানালেই হয়তো এড বসিয়ে টাকা আসবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা এত সহজ না। ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল মানে শুধু গুগলের কাছ থেকে একটা অনুমতি পাওয়া। যে অনুমতির মাধ্যমে তুমি তোমার ওয়েবসাইট বা ব্লগে google এর বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবে।
কিন্তু এই অনুমতি সবাইকে দেয় না কারণ গুগল আগে যাচাই করে দেখে তোমার সাইট'টা কতটা মানসম্মত, কনটেন্টগুলো কতটা ইউনিক, আর ভিজিটরদের জন্য কতটা উপকারী। আমি যখন প্রথমবার অ্যাপ্লাই করি তখন ভাবিনি এত কিছু চেক করা হয়। কিন্তু রিজেক্ট হওয়ার পর বুঝতে পারি google আসলে খুব সিরিয়াসভাবে সবকিছু দেখে। তারা শুধু চায় না তুমি টাকা ইনকাম করো। তারা চাই তোমার সাইটে যারা আসবে তারা যেন ভালো অভিজ্ঞতা পায়। গুগল এর কাছ থেকে টাকা ইনকাম করার অনুমতি কিন্তু এর পেছনে কিছু শর্ত আছে।
কনটেন্ট ইউনিক হতে হবে, ব্লগে যথেষ্ট তথ্য থাকতে হবে, কোন কপি পেস্ট বা পলিসি ভায়োলেশন থাকা যাবে না, সাইট দেখতে সুন্দর ও ব্যবহার সহজ করতে হবে। আমি পরে বিষয়টা বুঝলাম তখন নতুন করে কাজ শুরু করি। প্রতিটি পোস্ট নিজের ভাষায় লিখতে শুরু করি, বড় করি, আর ভিজিটরদের কথা মাথায় রেখে লিখি। তখন বুঝতে পারলাম এডসেন্স শুধু টাকা এডসেন্স শুধু একটা এড নেটওয়ার্ক না এটা আসলে একটা স্ট্যান্ডার্ড মানে গুগল তোমার সাইটকে তখনই আ্যাপ্রুভ করবে যখন তারা নিশ্চিত হবে তুমি সত্যিই ভ্যালু দিচ্ছ।
আরেকটা জিনিস খেয়াল করেছি অনেকেই অ্যাপ্রুভাল পাওয়ার জন্য ব্লগ বানাই কিন্তু এতে কাজ হয় না। আর কোনটা সত্যি, মানুষের জন্য তৈরি গুগল খুব সহজে ধরে ফেলে। তাই আমি সব সময় বলি আগে ভালো কনটেন্ট বানাও অ্যাপ্রুভাল নিজে থেকে আসবে। বাস্তবভাবে চিন্তা করলে এডসেন্স অ্যাপ্রভাল মানে হলো তোমার ব্লগ এখন ইনকাম করার জন্য প্রস্তুত, গুগুল তোমার কনটেন্টকে বিশ্বাস করছে, তুমি এখন অনলাইনে সিরিয়াস ভাবে কাজ করতে পারবে।
সবশেষে আমি এটা বলবো এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পাওয়া কোনো জাদু না আবার খুব কঠিন না। শুধু সঠিকভাবে কাজ করতে হবে, ধৈর্য রাখতে হবে, আর নিজের ভুলগুলো বুঝে ঠিক করতে হবে। আমি নিজেও শুরুতে না বুঝে অনেক ভুল করেছি। কিন্তু পরে যখন ঠিকভাবে কাজ করেছি তখন অ্যাপ্রুভাল পেয়েছি। তাই তুমি যদি নতুন হও তাহলে আগে বুঝে নাও এডসেন্স আসলে কি তাহলে পরের ধাপগুলো অনেক সহজ হয়ে যাবে।
গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল না পেলে কি করবেন
অনেকে যখন প্রথমবার google এডসেন্স এর জন্য আবেদন করে এবং রিজেক্ট হয়ে যায়। তখন খুব হতাশ হয়ে পড়ে। আমি নিজেও ঠিক এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। প্রথমবার রিজেক্ট হওয়ার পর মনে হয়েছিল হয়তো ব্লগিং আমার জন্য না। কিন্তু পরে একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবলাম, আসলে কোথায় ভুল হচ্ছে সেটা বুঝতে হবে। কারণ google কোনো কারণ ছাড়া কাউকে রিজেক্ট করে না। তারা সব সময় একটা নির্দিষ্ট কারণ দেখায়। যেমনঃ Low value content বা policy violation।
তখন আমি ইমেইলটা ভালো করে পড়লাম এবং বুঝতে চেষ্টা করলাম আমার ব্লগে আসলে কি কি সমস্যা আছে। দেখি অনেক পোস্ট ছোট, কিছু পোস্টে ঠিকমতো তথ্য নেই, আর ব্লগে About, Contact, Privacy policy পেজ ঠিকমতো করা ছিল না। তখন বুঝলাম শুধু অ্যাপ্লাই করলেই হবে না। ব্লগটাকে আগে প্রস্তুত করতে হবে। তখন আমি কি করেছিলাম জানো? আমি নতুন করে সবকিছু ঠিক করতে শুরু করি।
প্রথমে আমি আমার পুরনো পোস্টগুলো আপডেট করি। সেগুলো বড় করে নিজের ভাষায় আবার লিখি, তারপর ব্লগে প্রয়োজনীয় সব পেজ যোগ করি, About, Contact, Privacy policy, এছাড়া আমি ব্লগের ডিজাইন একটু ঠিক করি যাতে দেখতে পরিষ্কার লাগে এবং মোবাইলে ভালোভাবে দেখা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা করেছে সেটা হলো তাড়াহুড়ো বন্ধ করেছি। আগে পাঁচ ছয়টা পোস্ট লিখে আ্যাপ্লাই করতাম কিন্তু এখন আমি অন্তত ত্রিশটা ভালো মানের পোস্ট না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি।
যদি তোমার এডসেন্স রিজেক্ট হয় তাহলে এই কাজগুলো করো। ইমেইলে দেওয়া কারণটা ভালো করে পড়ো, কনটেন্টগুলো বড় এবং ইউনিক করো, সব গুরুত্বপূর্ণ পেজ যোগ করো, ব্লগটা মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা চেক করো। কিছুদিন অপেক্ষা করে আবার আ্যাপ্লাই করো। আরেকটা জিনিস আমি খুব ভালোভাবে বুঝেছি, বারবার রিজেক্ট হওয়া মানে তুমি ব্যর্থ না বরং তুমি এখনো ঠিকভাবে প্রস্তুত হওনি। google আসলে তোমাকে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আরো একটু কাজ করতে হবে।
আমি নিজেও দুই তিনবার রিজেক্ট হওয়ার পর আ্যাপ্রুভাল পেয়েছি। তাই এই সময়টাকে হতাশ হয়ে নষ্ট না করে নিজের ব্লগকে আরও ভালো করার জন্য ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। সবশেষে একটা কথা বলবো ধৈর্য ছাড়া ব্লগিংয়ে সফল হওয়া সম্ভব না। তুমি যদি সত্যিই সিরিয়াস হও এবং নিজের ভুলগুলো ঠিক করে এগিয়ে যাও তাহলে একসময় অবশ্যই পাবে। শুধু হাল ছাড়বে না আর তাড়াহুড়ো করবে না। এই দুইটা জিনিস মেনে চললে সফলতা আসবে।
লো ভ্যালু কনটেন্ট সমস্যা সমাধানের সহজ উপায়
সত্যি কথা বলতে লো-ভ্যালু কনটেন্ট অ্যাডসেন্স রিজেক্ট হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি। আমি নিজেও এই ভুলটা শুরুতে অনেকবার করিছি তখন আমি ভাবতাম শুধু পোস্ট লিখলেই হবে, ছোট হোক বা বড় তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু পরে বুঝলাম google আসলে কন্টেন্টের দৈর্ঘ্য না কনটেন্টের ভ্যালু দেখে। মানে একজন ভিজিটর তোমার পোস্ট পড়ে কিছু শিখতে পারছে কিনা তার সমস্যার সমাধান পাচ্ছে কিনা এই জিনিসগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আমি যখন আমার পুরনো পোস্টগুলো পড়লাম, তখন দেখলাম অনেক জায়গায় ঠিকমতো ব্যাখ্যা নেই, শুধু উপর উপর লেখা, আবার কিছু জায়গায় অন্য সাইট দেখে আইডিয়া নিয়ে লিখেছিলাম। সেটা একদম ইউনিক না এ কারেণ google আমার সাইটকে লো ভ্যালু কনটেন্ট বলে রিজেক্ট করেছিল। তখন আমি বুঝলাম শুধু বেশি পোস্ট থাকলেই হবে না, প্রতিটি পোস্টের ভেতরে আসলে কিছু থাকতে হবে। এরপর আমি কিভাবে এই সমস্যাটা ঠিক করলাম, আমি প্রথমে আমার সব পোস্ট একে একে ঠিক করতে শুরু করি।
আমি প্রতিটি পোস্ট বড় করি, বিস্তারিতভাবে লিখি, নিজের অভিজ্ঞতা যোগ করি, চেষ্টা করি এমন ভাবে লিখতে যেন কেউ পড়লে মনে হয় সে সত্যি কিছু শিখছে। শুধু তথ্য দিলেই হবে না বুঝিয়ে বলতে হবে, এই জিনিসটা আমি তখন বুঝেছি। এছাড়া আমি একটা বিষয় মেনে চলতে শুরু করি, কখনোই কপি পেস্ট না করা। নিজের মতো করে লিখি, সহজ ভাষায় লিখে যাতে সবাই বুঝতে পারে। লো ভ্যালু কনটেন্ট ঠিক করার জন্য আমি এই কাজগুলো করেছি।
আরো পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে কন্টেন্ট রাইটিং করে আয় করার উপায়
প্রতিটি পোস্ট ১৫০০+ শব্দে নিয়ে গেছি, হেডিং এবং হেডিং ঠিক করেছি, উদাহরণ এবং ব্যাখ্যা যোগ করেছি, অপ্রয়োজনীয় বা ফাঁকা লেখা বাদ দিয়েছি, ভিজিটরের সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আরেকটি জিনিস আমি খেয়াল করেছি, আগে আমি শুধু লেখার জন্য লিখতাম কিন্তু এখন আমি ভাবি এই পোস্টটা পড়ে মানুষ কি পাবে। এই চিন্তাটা আসলে কন্টেন্টের মান বাড়িয়ে দেয়। কারণ তখন তুমি নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দাও, বাস্তব উদাহরণ দাও, আর লেখাটা একদম ন্যাচারাল হয়ে যায়।
সবশেষে আমি এতটুকু বলবো লো ভ্যালু কনন্টেন্ট কোনো বড় সমস্যা না কিন্তু এটা ঠিক না করলে এডসেন্স পাওয়া খুব কঠিন। আমি নিজেও এই সমস্যার মধ্যে ছিলাম কিন্তু ধীরে ধীরে ঠিক করেছি। তুমি যদি নিজের কনটেন্ট সত্যি ভ্যালু যোগ করতে পারো তাহলে গুগল একসময় অবশ্যই সেটা বুঝবে। তাই তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে প্রতিটা পোস্ট ভালো করে লিখো দেখবে ফল একদিন ঠিকই পাবে।
দ্রুত এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পাওয়ার গোপন কৌশল
অনেকেই প্রশ্ন করেন, এমন কোন ট্রিক আছে নাকি যেটা করলে খুব দ্রুত এডসেন্স আপ্রুভাল পাওয়া যায়। সত্যি কথা বলতে শুরুতে আমিও ঠিক এই প্রশ্নটাই করতাম। youtube, facebook যেখানে যা পেতাম সব জায়গায় খুঁজতাম। শর্টকাট কোন উপায় আছে কিনা? কেউ বলতো ১০টা পোস্ট দিলেই হবে, কেউ বলতো ডমেইন কিনলে অ্যাপ্রুভাল পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে যখন নিজে চেষ্টা করলাম তখন বুঝলাম, এসব কথা বেশিরভাগই আসলে সত্য নয়। কারণ আমি ১০-১২ টা পোস্ট দিয়েও রিজেক্ট হয়েছি। আবার ভালো কনটেন্টও দিয়েও প্রথমে পাইনি।
তখন মাথায় একটা জিনিস পরিষ্কার হলো এখানে গোপন কৌশল বলতে আসলে শর্টকাট কিছু না। বড় কিছু নির্দিষ্ট জিনিস ঠিকঠাক করলে অ্যাপ্রুভাল খুব সহজেই পাওয়া যায়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যেটা বুঝেছি গুগুল আসলে খুব সোজা একটা জিনিস দেখে, তুমি কি সত্যি ইউজারের মতো কাজ করছো নাকি শুধু এডসেন্সের জন্য। যেদিন থেকে আমি এই চিন্তাটা মাথায় রাখলাম, সেদিন থেকে আমার কাজের ধরন বদলে গেল। আগে যেখানে শুধু পোস্ট সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তা করতাম ।
এখন সেখানে প্রতিটি পোস্টকে এমন ভাবে বানানো চেষ্টা করি যেন সেটা সত্যিই কারো কাজে লাগে। আমি পোস্টের শুরুটা আকর্ষণীয় করি, মাঝখানে উদাহরণ দিয়ে, আর শেষে কিছু বাস্তব টিপস যোগ করি, এতে করে কনটেন্টটা একদম আলাদা হয়ে যায়। এখন যদি বলো তাহলে আসল কৌশল কি? আমি যেগুলো ফলো করি সবচেয়ে বেশি ফল পেয়েছি, সেগুলো হলো কমপক্ষে ৩০ টা ভালো মানের পোস্ট তৈরি করা, প্রতিটি পোস্ট ৮০০-১৫০০ শব্দের রাখা, About, Contact, Privacy Policy ঠিক ভাবে রাখা. ব্লগ মোবাইল ফ্রেন্ডলি করা, একদম ইউনিক কন্টেন্ট লেখা কপি পেস্ট না করে।
কিন্তু শুধু এগুলো করলেই হবে না আরো একটা জিনিস গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো ধর্য্য। আমি আগে যেটা করতাম আজ পোস্ট দিলাম কালকে আ্যাপ্লাই করে দিলাম এটা একদম ভুল ছিল। এখন আমি অন্তত ২-৩ সপ্তাহ ব্লগকে সময় দিই। কিছু ট্রাফিক আসতে শুরু করে, তারপর অ্যাপ্লাই করি। গুগল বুঝতে পারে সাইটটা নতুন হলেও একদম ফাঁকা না। একটা ছোট কিন্তু খুব কাজের টিপস বলি, অ্যাপ্লাই করার আগে নিজের সাইটটা নিজে ঘুরে দেখো, তুমি কি ভাবো, তুমি একজন ভিজিটর, তুমি কি সহজে সবকিছু খুঁজে পাচ্ছো পোস্টগুলো কি পড়তে ভালো লাগছে?
কোন কিছু কি অসম্পূর্ণ লাগছে? এভাবে দেখলেই নিজেই ভুলগুলো নিজেই বুঝতে পারবে। আরেকটা জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি, অনেকেই খুব বেশি ডিজাইন বা বিভিন্ন কালারিং করে থাকে। কিন্তু কনটেন্ট ঠিক করে না। গুগল কিন্তু ডিজাইন না কন্টেন্টকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই আগে কন্টেন্ট ঠিক করো পরে ডিজাইন। শেষে একটা বাস্তব কথা বলি দ্রুত এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল কোনো জাদু নেই কিন্তু সঠিকভাবে কাজ করলে দ্রুতই পাওয়া যায়।
মানসম্মত কনটেন্ট লেখার সঠিক এসিও নিয়ম
শুরুতে যখন আমি কনটেন্ট লিখতাম তখন আসলে এসিও জিনিসটা কি? এটা ঠিকমতো বুঝতাম না। আমি ভাবতাম শুধু বড় বড় লেখা লিখলেই হবে। কিন্তু পরে দেখলাম পোস্ট লিখলে গুগলে আসছে না, ভিজিটরা তেমন পাচ্ছি না, তখন একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে বুঝলাম। শুধু লেখা বড় হলেই হয় না। সেটাকে সঠিকভাবে সাজাতে হবে, যেটাকে আমরা এসিও বলি। আসলে এমনভাবে কন্টেন্ট লেখা উচিত যাতে গুগল সহজে বুঝতে পারে, কি বিষয়ে লিখছো আর ইউজারও পড়ে সহজে বুঝতে পারে।
আমি যখন এই জিনিসটা মাথায় রেখে লেখা শুরু করি, তখন ধীরে ধীরে পরিবর্তনটা দেখতে পাই। আগে যেখানে একটা পোস্টে কেউ 10 সেকেন্ড থাকতো না এখন সেখানে মানুষ বেশি সময় থাকে। এ বিষয়গুলো গুগলের কাছে খুব পজিটিভ সিগন্যাল। আমি তখন নিজের লেখা একটু বদলায়, শুধু লিখে যাওয়া বন্ধ করে, একটু প্ল্যান করে লেখা শুরু করি। যেমন প্রথমে আমি একটা ক্লিয়ার টাইটেল দিই, তারপর সেই টাইটেলের সাথে মিল দেখে হেডিং ভাগ করি, ব্যাখ্যা দেই, এতে করে পুরো কন্টেন্টটা দেখতে পরিষ্কার লাগে, আর পড়তেও সহজ হয়।
আগে আমি একটা না বড় প্যারা লিখতাম। কিন্তু এখন ছোট বড় মিক্স করে লিখি। এতে করে ইউজার বোর হয় না। এসিও করার আগে আমি যেগুলো ফলো করি, টাইটেলে মূল কিওয়ার্ড ব্যবহার করি।প্রথম প্যারার মধ্যে টপিকটা ক্লিয়ার করে দিন, হেডিং H2/H3 ব্যবহার করি, কন্টেন্ট ভাগ করি, সহজ ভাষায় লিখি, যেন পাঠকরা সহজে বুঝতে পারে, অপ্রয়োজনীয় কথা কম লিখে দরকারী কথা বেশি দিই। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আমি শিখেছি গুগলের জন্য না, মানুষের জন্য লিখতে হয়। অনেকে শুধু কিওয়ার্ড ঢোকাতে গিয়ে লেখাটা অদ্ভুত করে ফেলে।
আমি আগে এই ভুলটা করতাম, পরে বুঝেছি লেখা শুধু ন্যাচারাল না হয়, তাহলে কেউ পড়তেই চাইবে না। তাই এখন আমি এমন ভাবে লিখি, যেন কারো সাথে কথা বলছি এতে করে লেখাটা একদম লাইভ মনে হয়। একটা সহজ টেকনিক বলি লেখার সময় নিজের মনে প্রশ্ন করো, এ লেখাটা পড়ে কেউ উপকার পাবে কি? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে বুঝবে তুমি ঠিক পথে আছো। আরেকটা জিনিস আমি এখন প্রতিটা পোস্টের চেষ্টা করি কিছু বাস্তবতা যোগ করতে।
শুধু তথ্য না, সাথে নিজের অভিজ্ঞতা, ছোট টিপস বা উদাহরণ দিয়ে এতে করে কন্টেন্টটা আলাদা লাগে। শেষে একটা বাস্তব কথা বলে এসিও মানে শুধু গুগলের র্যাংক করা না, এসিও মানে হলো মানুষকে ধরে রাখা। কারণ মানুষ যদি তোমার পোস্ট পড়ে, সময় দেয়, তাহলে গুগল নিজে থেকেই বুঝে যাবে, এটা ভালো কনটেন্ট। তাই আমি এখন আর শুধু এসিও করার জন্য লিখি না বরং এমনভাবে লিখি যাতে মানুষ পড়ে সন্তুষ্ট হয় আর এই চিন্তাটাই আসলে সবচেয়ে বড় SEO নিয়ম। যেটা আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি।
পলিসি ভায়োলেশন এড়ানোর কার্যকরী টিপস
পলিসি ভায়োলেশন থেকে দূরে থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো প্রতিটি নিয়ম, শর্ত এবং গাইডলাইন গভীরভাবে বোঝা। অনেক সময় নতুন ব্লগার বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ছোটখাটো নিয়ম উপেক্ষা করে এবং সেটি পড়ে বড় সমস্যা সৃষ্টি করে। আপনার ব্লগ ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্রোফাইল যত ছোট বা নতুন হোক না কেন? সব সময় নিশ্চিত করুন যে আপনার কনটেন্টটা পূর্ণতা মান এবং নির্ভুলতা বজায় রেখেছে কি না। প্রতিটি পোস্ট তৈরি করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, এই কনটেন্ট কি পাঠকের জন্য মূল্যবান, প্রাসঙ্গিক এবং নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য।
যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে কন্টেন্ট প্রকাশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া নিয়মিত গাইডলাইন আপডেট চেক করা জরুরী। কারণ অনেক সময় নীতি পরিবর্তন হয়, পুরনো নিয়ম অনুযায়ী লেখা, কনটেন্ট হঠাৎ করে ভায়োলেশন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত নৈতিকতা এবং প্রফেশনালিজম বজায় রাখা, পলিসি ভায়োলেশন এড়ানোর আরেকটি কার্যকরী হাতিয়ার। কোনো কনটেন্ট শেয়ার করার আগে নিশ্চিত করুন।
এটি অথেন্টিক, কপিরাইট মুক্ত এবং কমিউনিটি স্ট্যান্ডার অনুযায়ী কপি পেস্ট, ক্লিকবেট, শিরোনাম বা আপত্তিকর মিডিয়া ব্যবহার কখনোই করা উচিত না, ভুল ত্রুটি চিহ্নিত করা, এবং প্রয়োজন হলে সংশোধন করা, দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা দেয় এবং আপনার প্রফেশনাল ইমেজ ও শক্তিশালী করে। এছাড়া ব্লগ বা সাইটের নেভিগেশন প্রাইভেসি পলিসি নীতি সবকিছু সঠিক রাখা ভায়োলেশন থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে।
এডসেন্স আবেদনের আগে যা চেক করবেন
এডসেন্স আবেদন করার আগে ব্লগ বা ওয়েবসাইটের সমস্ত কনটেন্ট ও নেভিগেশন সম্পূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক নতুন ব্লগার ছোটখাটো ভুলগুলোকে উপেক্ষা করে। তাই আপনার ব্লগের প্রতিটি পোস্ট পূর্ণাঙ্গ, তথ্যবহুল এবং পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক কিনা তা পরীক্ষা করা আবশ্যক। প্রতিটি লেখা যেন অন্যান্য হয়, কপি করা না হয় এবং পাঠকের জন্য যথাযথ তথ্য প্রদান করে, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রাসঙ্গিক হতে হবে।
কোন কপিরাইট লঙ্ঘন নেই তা নিশ্চিত করুন, ভিডিও বা মিডিয়া ও অবশ্যই অথেনটিক হতে হবে, ব্লগে থাকা সব পেজ যেমনঃ About, Contact, Privacy policy ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করা আবশ্যক। অনেক সময়ের ছোটখাটো পেজগুলোর অবহেলা রিজেকশনের বড় কারণ হয়। ব্লগের নেভিগেশন সহজ এবং ব্যবহারকারীর বান্ধব হলে ভিজিটররা সহজে ব্লগ ঘুরে দেখতে পারবে যা এডসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি লিংক সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, কোন লিংক ভাঙা আছে কিনা চেক করা অত্যন্ত জরুরী।
এছাড়া ব্লগের থিম এবং লেআউট মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা তা পরীক্ষা করা জরুরী। যদি কোনো মোবাইল বা ট্যাবলেটে ঠিকমতো না চলে বা লেআউট অগোছালো হয় তাহলে অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।প্রতিটি পোস্টের হেডিং ট্যাগ সঠিকভাবে ব্যবহার করা, প্যারাগ্রাফ পরিষ্কার রাখা এবং কনটেন্ট সহজ ভাবে সাজানো অত্যন্ত জরুরি। সব সময় লক্ষ্য রাখুন এটি মূল তথ্যবহুল এবং প্রাসঙ্গিক হয়, অপ্রাসঙ্গিক কন্টেন্ট কখনো ব্যবহার করবেন না, নিয়মিত ব্লগ চেক করুন। সবকিছু গুগল এডসেন্স গাইডলাইন অনুযায়ী আছে কিনা?
আরো পড়ুনঃ ১৫০০ টাকার নিচে কোন ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার দেয়
এসইও এর দিক থেকে ব্লকটি প্রস্তুত রাখুন। প্রতিটি পোস্টের মূল কিওয়ার্ড প্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহার করুন। মেটা ডেসক্রিপশন ঠিক রাখুন এবং ছবিতে আল্ট ট্যাগ ব্যবহার করুন। এই ধরনের ছোটখাটো বিষয়গুলো গুগল এডসেন্সে অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে এবং নিয়মিত কনটেন্ট আপডেট করা থাকলেও আবেদন প্রক্রিয়ার সুবিধা হয়। সবশেষে আবেদন করার আগে নিজের ব্লগটা একবার সম্পূর্ণ রিভিউ করা অত্যন্ত জরুরী। সমস্ত পোস্ট নেভিগেশন, থিম মিডিয়া, কন্টেন্ট এবং এসিও উপাদান পরীক্ষা করুন। কোন ত্রুটি থাকলে তা ঠিক করুন। এই অভ্যাস শুধু আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করবে না বরং দীর্ঘ মেয়াদে আপনার ব্লগকে প্রফেশনাল বিশ্বাসযোগ্য এবং ব্যবহারকারী করে তুলবে।
শেষ কথাঃ এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল বারবার রিজেক্ট হওয়ার কারণ কি
এই আর্টিকেলে এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল বারবার রিজেক্ট হওয়ার কারণ কি , গুগলে এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পাওয়ার সুবিধা, এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল কি, গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল না পেলে কি করবেন, লো ভ্যালু কনটেন্ট সমস্যা সমাধানের সহজ উপায়, দ্রুত এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পাওয়ার গোপন কৌশল ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মানসম্মত কনটেন্ট লেখা সঠিক নিয়ম, পলিসি ভায়োলেশন এড়ানোর কার্যকরী টিপস, এডসেন্স আবেদনের আগে যা চেক করবেন ইত্যাদি বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, আপনি যদি সম্পূর্ণ ব্লকটি মনোযোগ সহকারে পড়েন। তাহলে আপনি এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল বারবার রিজেক্ট হওয়ার কারণ কি , সেগুলো বিস্তারিত বুঝতে পারবেন।
ব্লগটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং উপকারে আসে, তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার কোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানান। আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আমাদের আরও ভালো কনটেন্ট লিখতে অনুপ্রাণিত করে।

রুমি টিপস আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url